নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়রণ অন্তর্ভুক্ত চান এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:   জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর প্রস্তাবনার আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়রণের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট (এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনসমুহের জোট)।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এই সমস্ত দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তারা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই-২০২৫ খ্রি. “জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫” গঠন করে। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে। কমিশনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যালোচনা করে তাদের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ পূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

কমিশন ১৪ আগস্ট-২০২৫খ্রি, তারিখে প্রথম আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। একটি ন্যায়সংগত ও কার্যকরী বেতন কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইনে মতামত গ্রহণের জন্য চাকরিজীবী, সর্বসাধারণ, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থা/ সমিতির জন্য মোট চারটি প্রশ্নমালা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করে । পরবর্তীতে পে-স্কেলের স্টেক হোল্ডার প্রায় সকল পেশাজীবী গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করে বেতন কাঠামোর ব্যাপারে সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ করে। পে-স্কেলের স্টেক হোল্ডার হওয়ার কারণে ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট নেতৃবৃন্দকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আহ্বান জানালে জোট নেতৃবৃন্দ জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে মিটিং করে তাদের দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করে। কমিশন প্রস্তাবনাগুলো তাদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোট নেতৃবৃন্দকে আশ্বাস প্রদান করে।

আমরা ইদানীং গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন যাতে জারি না হয় এ ব্যাপারে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির ব্যাপারে যাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই তারাও হরহামেশা মতামত দিয়ে যাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করায় জনরোষ তৈরি হয়েছে। তার নেতিবাচক মন্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলেন। কর্মসূচিঃ

আগামি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এর পরও সরকার দাবি মেনে না নিলে জোট নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ মতিউর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদ, মোঃ নুরুল আমিন হেলালী, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদ, মোঃ মিজানুর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন, মোঃ হাবিবুল্লাহ রাজু, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম।

যুগ্ম সদস্য সচিবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, প্রকৌশলী মোঃ আবুল বাশার, মোঃ শান্ত ইসলাম, মোঃ আশরাফুজ্জামান হানিফ, মোঃ ইমরান হোসেন ও জোটের ঢাকা উত্তরের সমন্বয়ক মোঃ বাছির উদ্দিন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম, খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, খায়রুন নাহার লিপি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, এমএ মান্নান, নির্বাহী সমন্বয়ক, বাংলাদেশ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ, আব্দুল মালেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, আশিকুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব-১, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *