নুরুউল্লাহ হাওলাদার সবুজ, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা, হত্যা, চাঁদাবাজি,বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষন, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা, মন্দিরের জায়গা জোরপূর্বক দখল, মন্দিরে চুরি, ভাঙচুর, জবরদখলের প্রতিবাদে, ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সরকরী খরচে পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সহ সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের অঙ্গ সংগঠনগুলো রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর৭মাস ৪ দিনপর বিগত কর্তৃত্ববাদী স্বেচ্ছাচারী আওয়ামী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে; এরপর ১৮ মাস অন্তবর্তীকালীন সরকারের দম বন্ধ করা শাসনের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নিরুঙকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় সরকার পরিচালনায় ক্ষমতা নেওয়ার পর আমরা ভেবছি এই বার বুঝি সহিংসতা, খুন, ধর্ষন, উগ্রবাদ,ধর্মান্ধতা, নির্যাতন- নিপীড়ন, অবসান ঘটবে। পাবে ঘরে বাইরে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নির্ভয়ে থাকবে ঘরে বাইরে নারীরা, অফিস, আদালতে, পথে, নির্ভয়ে চলাফেরা করবে! কিন্তু কোথায় সে সুদিন? হিন্দু মহাজোটের মতে, এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, মন্দিরে হামলা, বিস্ফোরণ, ধর্ষন, জবরদখল, ধর্মীয় অবমাননা, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপের ব্যবস্থা গ্রহণ, জীরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ও ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সহ সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের অঙ্গ সংগঠনগুলো।
প্রসঙ্গত তারা জানান, ০৯ ফেব্রুয়ারী '২৬খ্রি. ময়মনসিংহের ত্রিশালে চাল ব্যবসায়ী সুসেন চন্দ্র সরকারকে (৬০) তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে, ১১ ফেব্রুয়ারী '২৬খ্রি সে সভীবাজারে কমলগঞ্জে একটি চা বাগান শুভ কর (২৮) নামে চা শ্রমিকে হাত-পা বেঁধে, গলা কেটে হত্যা করে দুস্কৃতিকারীরা, ১২ ফেব্রুয়ারী '২৬খ্রি বগুড়া জেলা শহরে সামান্য ৫০০ টাকা চাঁদা না দেয়ায় ছুরিকাঘাতে সুনীল বাঁশফোর (২৭) খুন করা হয়, ১৩ ফেব্রুয়ারী '২৬থ্রি গাইবান্ধা সদরে সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তরা সুজন কুমার- মহুরি (৩৮) কে মাথায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে, গত ২২ ফেব্রুয়ারী '২৬খ্রি ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শ্রী শ্রী অনিল সাধুর বাৎসরিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দুপুরে কীর্তন শুনতে যান এক ভক্ত হিন্দু নারী (২৯), কীর্তন শুনে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯ টার দিকে দুস্কৃতিকারীরা সড়ক থেকে ভূলে নিয়ে গিয়ে পাশ্ববর্তী সুপারি বাগান দলবদ্ধ ধর্ষন করে ফেলে যায়। এছাড়াও বর্তমান সময় এবং পূর্ববর্তী সময়ে আরো এরকম হাজারো ঘটনা রয়েছে। তাই সব সংগঠন মিলে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে যেন বর্তমান সরকার এই বিষয়টিকে সুনজর দেয় এবং সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান করেন। এ সময় সংগঠনের সকল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ সনাতন ধর্ম অবলম্বীদের সকল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
